সৌদি আরবের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, দেশের জন্য ফেরার যাতায়াত খরচ কমানোর জন্য সরকার একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় মাত্র ২০,৫০০ টাকার মধ্যেই প্রবাসীরা বিনা ঝামেলায় দেশে ফিরে যেতে পারবেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে এই প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিশ্চিত করেছেন যে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌদি আরব এবং বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এই সুযোগের ফলে প্রবাসী কর্মীরা যেমন সুবিধা পাবেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমানও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও জানান যে, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনায় আগে যেভাবে একমুখী ফ্লাইটের মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচ ও চাপ পড়ত, সেই পরিস্থিতি এখন এই উদ্যোগের কারণে সোল্ভ হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটা অগ্রগতি হবে এবং ভবিষ্যতে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ২০,৫০০ টাকা, আর রিটার্ন টিকেটের জন্য চাইলে খরচ হবে কমপক্ষে ৪২,০০০ টাকা। এই বিশেষ অফারটি কার্যকর থাকবে বাংলাদেশে আসার জন্য ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং পুনরায় সৌদি আরবে ফিরতে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই উদ্যোগকে প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনকে আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’ তবে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই উদ্যোগের সফলতা ও তা পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কঠোর তদারকি ও মনিটরিং অপরিহার্য। কারণ অতীতে নানা উদ্যোগ যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মূলত, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বিমান পরিবহনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।






