বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির উত্তেজনাকর প্রেক্ষাপটে বিএনপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি রাজনৈতিক দলের আচার-আচরণ সন্দেহজনক। তিনি বলেন, ভোটাধিকার ও গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্বাচন দেশের জন্য জরুরি হলেও, যেভাবে এই দলটি আচরণ করছে, তা চিন্তার কারণ। এর সঙ্গে তারা নিজেরাও বিভ্রান্ত এবং হয়তো তাদের মধ্যে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে যা দেশের চলার পথকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
রিজভী জামায়াতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্যের প্রশ্ন তুলে বলেন, জামায়াতের দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং বিভ্রান্তি তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে দলটির স্ববিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথমে তারা নারীদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা করায় উদ্যোগ নিলো, পরে বলে তারা এমন কথা বলেনি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে বিএনপি নেতা জোর দিয়ে বলেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তখন নাগরিক অধিকার রক্ষা পাবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন, জামায়াত বর্তমানে জনকল্যাণমূলক চিন্তার পরিবর্তে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা নিজেদের ভালোভাবেই বুঝতে পারছে না বা জনগণের ভাষায় বলতে গেলে, তারা চাটুকারীতার রসনায় ভাসছে। আগামী দিনের হুমকি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত প্রধান নারীদের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চায় না। কিন্তু তারা ভোট প্রক্রিয়ায় নারীদের দিয়ে কাজ করলেও, ক্ষমতায় এলে নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন বলে সতর্ক করেছেন।
এছাড়া, বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা একটি ‘গোপন চিঠি’র উল্লেখ করে বলেন, এতে নাহের ইসলাম নামে এক নারী শিক্ষিকাকে হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে বিএনপির নারী সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দিতে জামায়াত নানা কূটকৌশল ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনী মাঠে জামায়াতের এই কার্যকলাপ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন রিজভী।






