উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটে লিগ পর্বের সেটি শেষ হলো একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় শেষের মাধ্যমে। গত রাতে একই সময়ে অনুষ্ঠিত শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে প্রতিদিনই পয়েন্ট টেবিলের চিত্র বদলে গেছে, যা দর্শকদের জন্য তৈরি করেছে টানটান উত্তেজনা। ৩৬ দলের এই বিশাল প্রতিযোগিতায় লিগ পর্বের শেষের দিকে টেবিলের শীর্ষে থেকে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। এই দলের পাশাপাশি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সরাসরি নকআউট পর্বে উঠে এসেছে বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম হটস্পার, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটি। শেষ রাউন্ডের ম্যাচে আর্সেনালের দল ৩-২ গোলে কাইরাত আলমাতিকে হারিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে। অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখ ২-১ গোলে পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে জয় দিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান ধরে রেখেছে।
তবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির জন্য ছিল হতাশার রাত। রিয়াল মাদ্রিদ, তিন নম্বর স্থান থেকে শেষ রাউন্ডে নেমে, বেনফিকার মাঠে ৪-২ গোলে হেরে গেছে। ফলে তারা সরাসরি শেষ ষোলোয় উঠতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন তাদের জন্য প্লে-অফ রাউন্ডের বাধা অতিক্রম করতে হবে। অন্যদিকে, পিএসজি ঘরের মাঠে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ ড্র করার কারণে এখন তাদের প্লে-অফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এছাড়া, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, বায়ার লেভারকুজেন ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোও সেরা আটে পৌঁছাতে পারেনি, তাই তাদের এগোতে হলে দুই লেগের প্লে-অফ খেলতেই হবে।
লিগের শেষ রাতে অন্যতম বড় চমক ছিল বেনফিকার উদযাপন। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য এক গোলে তারা নাটকীয়ভাবে এগিয়ে যায় এবং প্লে-অফের টিকিট পেয়ে যায়। এই প্লে-অফে মোট ১৬ দল মুখোমুখি হবে, যার মধ্যে আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠবে। এই পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদ বা ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জেতা সম্ভব হতে পারে বেনফিকা বা গ্লিম্টের মতো দলের। পাশাপাশি, পিএসজি বা নিউক্যাসল সম্ভবত মুখোমুখি হবে মোনাকো বা কারাবাখের। ডর্টমুন্ডও সম্ভাব্য লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বায়ার লেভারকুজেন বা আতালান্তার বিপক্ষে।
এই মুহূর্তে, ৩৬ দলের মধ্যে ১২টি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। কাইরাত আলমাতি, ভিয়ারিয়াল, স্লাভিয়া প্রাহা ও আইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্তসহ বেশ কিছু নাম ইতিমধ্যে বিদায় নিশ্চিত করেছে। তবে শেষ দিনটিতে যোগ হয়েছে মার্সেই, নাপোলি, আয়াক্স, পিএসভি আইন্দহোভেন, অ্যাথলেটিক বিলবাও ও কোপেনহেগেনের মতো পরিচিত দল। এখন ইউরোপের ফুটবল বিশ্ব নজর রাখছে প্লে-অফের দিকে, যা নির্ধারণ করবে নকআউট পর্বের চূড়ান্ত চিত্র। এই নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি গোলের জন্য লড়াই, দলগুলোকে আরও বেশি তাগিদ দিয়ে তুলেছে, আর এতে চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।






