পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, এমন খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জিও নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিকভাবে চোখের বিশেষজ্ঞরা তার পরীক্ষা করেন। পরে তারা সুপারিশ করেন, আরও কিছু ছোট চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে আনতে হবে। সেই অনুযায়ী, শনিবার রাতে তাকে পিমস-এ নিয়ে যাওয়া হয়। বরাবর তার লিখিত অনুমোদনের পরই তার বিস্তারিত চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। প্রায় বিশ মিনিটের এই চিকিৎসার পর, ইমরান খানকে রাজকীয়ভাবে নির্দেশনা দিয়ে আদিয়ালা কারাগারে ফিরে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্যের অবনতি বা দুর্বলতা নয়, বরং চিকিৎসাধীন সময়ে তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এসবের মধ্যে, তার চিকিৎসা চলাকালীন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং জেলের নিয়মমাফিক সকল বন্দির মতো নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে, ইমরানের দল পিটিআই বলেছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, তার ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআভিও) ধরা পড়েছে। এটি যদি সময়মতো চিকিৎসা না-pা হয়, তবে ইমরান খান চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। গত ডিসেম্বরে, পাকিস্তান সরকার জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে ইমরানের সঙ্গে সকল ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করে। তবে, মঙ্গলবার পিটিআই এমপিরা আবারও ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে নতুন আবেদন দাখিল করেছেন। পাশাপাশি, ইমরানের বোন নওরীন নিয়াজি তার মেডিকেল রিপোর্টের জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক বার্তায় তিনি বলেন, বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আমাদের ভাই ইমরান খানকে রাতের অন্ধকারে চোখের চিকিৎসার জন্য পিমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে তিন ঘণ্টা রেখে, রহস্যময় পরিস্থিতিতে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এসব সত্য হয়, তবে কেন ইমরানের পরিবার ও আইনজীবীরা এই সব সত্য জানার সাহস পাচ্ছেন না? কার কাছ থেকে এই গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে? পরিবারের সদস্যরা জানতে পারছেন না, ইমরান খানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে, কেন তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, একাধিক মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পিটিআই প্রধান ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ নিষেধ করা হয়েছে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে। এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুয়া খবরও ছড়িয়ে পড়েছে।






