ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জাতীয় গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের জন্য একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন এবং কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবিটি দীর্ঘদিন থেকেই উচ্চারিত হয়ে আসছে, যা গণমাধ্যমে সংস্কার আইনের প্রতিবেদনেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর থেকে এ ব্যাপারে কার্যকরী কোন বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদ শেষে এসে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে জাতীয় গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশনের খসড়া প্রকাশ করে, যা নিয়ে টিআইবি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি মনে করে, এই খসড়া পরিকল্পনাজনিতভাবে গণমাধ্যমের ওপর আরো বেশি সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা, সংবিধান ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। মাত্র তিন দিনে মতামত চাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্বর্তী সরকারের হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চর্চা এবং অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বরূপ প্রকাশ করে বলে উল্লেখ করেছে তারা। একই সঙ্গে, শুরু থেকেই পরিচালনামূলক গোপনীয়তা ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই কৌশলগুলো সম্পূর্ণ সরকারি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রতি দৃষ্টি দেয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন চক্রান্ত চলে এসেছে, যেখানে অপরাধমূলকভাবে গণমাধ্যমকে দমন ও নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা লক্ষ্যণীয়।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দুটির মধ্যে গঠন ও স্ট্যাটাস, পদমর্যাদা, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সমস্তটাই সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, যা দেশের মুক্ত গণমাধ্যমের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ। অতীতের নানা সীমাবদ্ধতা ও অনভিজ্ঞতা বিবেচনায় সরকার যেন একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে।
সংস্থাটি আরও বলেন, এই দ্রুত খসড়া বাস্তবায়নের পরিবর্তে তাদের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন পরিকল্পনাগুলো পুনর্বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সরকারপ্রধানের দায়িত্বশীলতা ও জনস্বার্থে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদ গঠনের পরে রাজনৈতিক দলগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন হবে এবং একটি সত্যিকার অর্থে স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ গণমাধ্যম কমিশন গঠন করবে, যা দেশের গণমাধ্যমের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






