আজ সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি জেলা খুলনা ও যশোরে প্রচার_MOUSEই অংশ হিসেবে সফরে যাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর এই অঞ্চলগুলোতে তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ আর এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক জনসভাস্থলে রওনা দিয়েছেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা ১২টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে বড় আকারের নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই মঞ্চ থেকেই খুলনা বিভাগের মোট ১৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা, উন্নয়নের এই ধারাকে এগিয়ে নিতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে লক্ষাধিক মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেবেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। বিশেষ করে, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং উপকূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে আলোকপাত করবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আঞ্চলিক প্রতিফলন।
খুলনার সমাবেশ শেষে তারেক রহমান দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যশোর ক্রীড়া উদ্যানে (স্পোর্টস স্টেডিয়াম) আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন। এই সমাবেশটি যশোরে তার প্রথম সরাসরি রাজনৈতিক প্রচার হওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ মঞ্চ, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঐ দিন বিকেল ৩টায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি জলাবদ্ধতা সমস্যা ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের পরিকল্পনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।
তারেক রহমানের এই দ্বৈত সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও যশোরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলের স্বেচ্ছাসেবক দল তৎপর, যেন কোন বৃহৎ অপ্রতিকৃষ্ট পরিস্থিতি না হয়। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, একদিকে উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে তারেক রহমানের উপস্থিতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লোকজনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। মঞ্চ ও সাজসজ্জার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, এলাকা ছেয়ে গেছে আওয়াজে আর স্লোগানে। মূল লক্ষ্য, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের মানুষদের মন জয় করা এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা, বলছেন দলীয় নেতা।






