যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’ মার্কিন সিনেমা হলে এখনও শতকরা সাফল্য দেখাচ্ছে। মুক্তির আগে চলচ্চিত্র সমালোচকদের ব্যাপক নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে বিস্তৃত আলোচনায় আসলেও, দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা যেন একেবারে আলাদা। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই তথ্যচিত্রটি উত্তর আমেরিকার এক সপ্তাহের মধ্যে ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লক্ষ ডলারের বেশি আয় করতে সক্ষম হবে, যা একটি তথ্যচিত্রের জন্য সত্যিই নজিরবিহীন এক সাফল্য।
গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এই ছবিটির জমকালো প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন নিজেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া। অনুষ্ঠানের পর থেকে টিকিটের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চলমান ট্রেন্ড বজায় থাকলে আগামী সপ্তাহান্তে এই সিনেমা শীর্ষ স্থান অধিকার করতে পারে বলে ধারণা। এমনকি এটি হলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা জেসন স্ট্যাথামের নতুন চলচ্চিত্র ‘শেল্টার’কে পেছনে ফেলে আয় ও দর্শকপ্রিয়তায় শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।
এই ছবির পরিচালক ব্রেট র্যাটনার বিশ্বের অন্যতম বড় বাজেটের এই তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এর জন্য অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিশ্ববাজারে এর বৈশ্বিক স্বত্ব কিনেছে। সেই সঙ্গে প্রচার ও বিপণনের জন্য আরও ৩৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা বেশির ভাগই পড়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ মার্কেটে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রিদৈহিক সফলতার পেছনে প্রধান কারণ হলো বর্তমানে আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার সমর্থকদের এই সিনেমা দেখতে উৎসাহিত করছেন, যা রক্ষণশীল দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। যদিও সমালোচকদের শৈল্পিক মান ও বিষয়বস্তুর উপর তীব্র প্রতিমন্তব্য রয়েছে, সাধারণ দর্শকদের অংশগ্রহণে তা অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। মূলত ট্রাম্প দম্পতির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব এই বক্স অফিস সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ঘটনা হয়তো হলিউডের তথ্যে নির্মাণের ধারায় নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেবে।






