মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথিপত্র, যা সাধারণত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই নথিগুলিতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে, যেখানে বিশেষ করে বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। দাবি করা হয়, একসময় বিল গেটস রাশিয়ার তরুণ নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের মধ্যে লিপ্ত ছিলেন এবং সেই সময় একটি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই রোগের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে ওষুধ জোগাড় করে দিতে জেফরি এপস্টেইন নিজেকে দায়িত্বশীল বলে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিল গেটস এই সকল অভিযোগকে অস্বীকার করে বলে থাকেন যে, এ সবই অপপ্রচার এবং অযৌক্তিক প্রচেষ্টা।
নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার মধ্যে একটি ড্রাফট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়, যেখানে জেফরি এপস্টেইন নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি করে থাকেন বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়, এপস্টেইন এবং তার সহযোগীরা বিল গেটসের গোপন অনৈতিক কার্যকলাপের মধ্যস্থতাকারীরূপে কাজ করতেন। বিশেষ করে রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে গেটসের শারীরিক সমস্যা সমাধানে ওষুধ জোগাড়ে এপস্টেইনের জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টেইন ব্যক্তিগতভাবে বিল গেটসের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন, কারণ দীর্ঘ দিন ধরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকলেও এক সময় গেটস তাকে পরিত্যাগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে, অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন যে, এপস্টেইন এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে গেটসের মানহানি ও তার প্রতি অভিযোগ আনতে চেয়েছিলেন।
বিল গেটসের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগের জবাবে বলছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও হাস্যকর। তিনি আরও বলেন, এই গোপন নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে শুধুমাত্র এপস্টেইনের অপপ্রচেষ্টার গল্প, যেখানে দেখা যায় গেটসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এসব প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। গেটসের দাবি, তার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক কেবলমাত্র দাতব্য কাজের জন্য ছিল, ব্যক্তিগত বা নৈতিক স্থিতির কোনও সম্পর্ক তার মধ্যে ছিল না।
অতীতে এই বিষয়ে বিতর্ক আরও চরম আকার নিয়ে উঠেছিল। ২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এই সম্পর্ককে তার জীবনের অন্যতম বড় ভুল বলে স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মূলত অনুদান ও দাতব্য কাজে সহযোগিতা করার জন্য ছিল, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই সম্পর্কের কারণেই গেটসের বিবাহের ভাঙন সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।
এপস্টেইন ফাইলের এই প্রকাশের ফলে বিশ্বে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের ইমেজ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেসলার সিইও ইলন মাস্ক এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু সহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই নথিগুলিতে ভয়ানক ভিডিও ও ছবি থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করতে পারে। বিশ্বের নজর এখন এই বিষয়ে কি বা কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে, তার দিকে। তবে এত বড় এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক বিশ্লেষক নীতিমালা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই মামলার ভবিষ্যৎ এখন অধীর অপেক্ষার বিষয়।






