আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে নির্ধারিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ন্যাশনাল চ্যার্টার সংক্রান্ত গণভোট। এই নির্বাচন ও গণভোটের নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লিকে এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্বব্যাপী গৃহীত স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই আহ্বান পৌঁছে দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনকে বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশের জন্য এই পর্যবেক্ষক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, যার সংখ্যা এই বার গত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। এখন পর্যন্ত মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, ১৬টি দেশ ও নানা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব পর্যবেক্ষক প্রেরণের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে, এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের নাম এখন চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের পাশাপাশি নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, ফ্রান্স, মরোক্কো, নাইজেরিয়া, রোমানিয়া ও কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোও এই গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আসা পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, কমনওয়েলথ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউটসহ আরও কিছু স্বনামধন্য সংগঠন। এগুলো প্রাণবন্তভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন তাদের প্রতিনিধিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের এই সরব মনোযোগ ও ভারতের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নির্বাচন মানের ওপর বিশ্বস্ততার ঢেউ তুলবে। যদিও ভারতের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। বেশিরভাগ লক্ষ্য হলো স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ধারাকে আরও শক্তিশালী করা। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বৈধতা ও আন্তর্জাতিক মানের তাতে আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বৃহৎ পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব মহলে প্রস্তুতি চলেছে।






