বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, একটি গোপন গোষ্ঠী নির্বাচনকালীন সময়ে ভুয়া সিল ও ব্যালট তৈরি করে অনৈতিকভাবে ভোট প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই গোষ্ঠী, যাদের গুপ্ত নামে পরিচিত, তারা নতুন এক জালেমরূপে উঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভুয়া সিল প্রস্তুত করছে, ব্যালট ছাপাচ্ছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে ভীতি সৃষ্টি করছে।
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের বান্দ রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। এই বক্তৃতা উপলক্ষে সারাদেশে বিএনপি ও তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মুখতা ও উৎসাহ দেখা গেছে, কারণ খুব কম সময়ের মধ্যে এই প্রথম বার বরিশালে এসে তিনি ব্যাপক জনসমাগমের সামনে ভাষণ দেন।
তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, এই গোষ্ঠীর লোকজন তাদের পরিচিত প্রেস থেকেই ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। তারা এসব ব্যালট পকেটের ভিতরে নিয়ে ঘুরে ভোটের দিন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তারা মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, এর মধ্য দিয়ে তারা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের ভয়ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, এই অপকৌশলের জন্য কিছু লোক অপমানজনক কাজ করছে, যেমন মা-বোনদের তথ্য নেওয়া। এরপর এখন তারা বলছে, তাদের আইডি হ্যাক হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্যএই যে, আইডি হ্যাক হয়নি, বরং ধরা পড়ার পর তারা মিথ্যা কথা বলে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে।
জনসভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ১৩ তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে রাখতে হবে, কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে, আসল ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো দলই টিকে থাকতে পারে না। তাই আপনাদের উচিত জনগণের পাশে থাকা ও তাঁদের সেবা করা।
তারেক রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ১২ অক্টোবর গ্রামগঞ্জে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনও ষড়যন্ত্র সফল না হয়।
জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, জিয়াউর র বাংলার উন্নয়ন যে ধারায় এগোচ্ছিল, তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও তোলপাড় করবেন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে তার জন্য গড়ে উঠেছে আশার আলো।
সমাবেশের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
বেলা ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন তারেক রহমান। সেখানে তাকে স্বাগত জানায় বরিশালের শীর্ষ বিএনপি নেতারা। পরে গাড়িবহরে করে তিনি সরাসরি বেলস পার্ক মাঠে পৌঁছান এবং মঞ্চে উঠে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান। গোটা মাঠ জোড়ালো স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনেক মানুষ সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করেন। পুরো শহর দলীয় পতাকায় সজ্জিত হয়, ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সজ্জিত করে। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেয়, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০০৬ সালে তারপর থেকে দীর্ঘদিন পর তিনি আবার বরিশালে গিয়ে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিলেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির রাজনীতি ও সংগঠনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।






