আন্তর্জাতিক যুব ক্রিকেটে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তারকা ব্যাটার ফয়সাল শিনোজাদার অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তবে একই দিনে তারা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। এই হারের মাঝেও দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দিক থেকে আলোচনায় আসতে পেরেছেন ফয়সাল, যিনি যুব ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হয়ে থাকলেন। এই রেকর্ডটি আগের সময়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার সামি আসলামের দখলে ছিল।ফয়সাল কেবল রেকর্ডটি অর্জনই করেননি, বরং তাকে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর জন্যও প্রশংসিত হচ্ছেন। সামি আসলাম যেখানে ৪০ ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরি করেছিলেন, সেখানে ফয়সাল মাত্র ২২ ম্যাচে এটি করে দেখিয়েছেন। তালিকায় পরবর্তী যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে ভারতের উন্মুক্ত চাঁদ এবং বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয় রয়েছে, যাদের উভয়েরই ৫টি করে যুব ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে। বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ফয়সাল। তিনি ৯৩ বলে ১১০ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ১৫টি চারে সাজিয়েছিলেন তার এই দুর্দান্ত ব্যাটিং। এই ধ্বংসাত্মক ইনিংস আফগানিস্তানকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। পাশাপাশি উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই ৮৬ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই দুই ক্রিকেটারের ১৪৮ রানের দুর্দান্ত জুটির ওপর ভিত্তি করে আফগান যুব দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১০ রান সংগ্রহ করে। এই বিশাল লক্ষ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেওয়ার পরেও ভারতের ব্যাটসম্যানরা নির্ভার থাকেন। ভারতের ওপেনার অ্যারন জর্জ ১০৪ বলে ১১৫ রান করেন, যা দলের জয় সহজ করে দেয়। তাঁর এই রেকর্ডসংখ্যক রান ছিল ১৫টি চার ও ২টি ছক্কার মার। সঙ্গে খবরের আরও পরিচিত মুখ, তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৩৩ বল খেলেই ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় দ্রুত ৬৮ রান করেন। অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রো ৫৯ বলে ৬২ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলে ভারত ষষ্ঠবার এবং মোট দশমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়, যা তাদের বিশ্ব যুব ক্রিকেটের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। অপরদিকে, আফগানিস্তানের জন্য ৩১০ রানের লক্ষ্যই হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা তাদের জন্য ছিল খুবই দুঃখজনক। তবে ফয়সাল শিনোজাদার গড়ে ওঠা এই বিশ্বরেকর্ড নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে বাংলাদেশের, ভারতের, এবং আফগান ক্রিকেটের জন্য। আগামী শুক্রবার, ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারতের যুব দল প্রথমবারের মতো শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। পুরো টুর্নামেন্টে ভারতের ধারাবাহিক ও অপরাজিত পারফরম্যান্স তাদের আবারও বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার পথে অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।






