বিশ্বের দুই বৃহত্তম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত সুসম্পর্কপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় দুই নেতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, তাইওয়ান সংকট, ইরান পরিস্থিতি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ অন্যান্য বৈশ্বিক এবং দ্বিপাক্ষিক বিষয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে শি জিনপিংয়ের ভিডিও বৈঠকের মাত্র কিছু ঘণ্টা পরই এই ফোনালাপের আয়োজন হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এর বিশেষ গুরুত্ব প্রকাশ পাচ্ছে।
ফোনালাপের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এই বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবকিছুই খুবই ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট শি এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই দৃঢ়। ট্রাম্প আরও জানান যে, এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দুই দেশের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু বাড়তি স্বাভাবিক থাকলে আগামী এপ্রিল মাসে ট্রাম্প চীন সফর করতে পারেন। যদিও প্রযুক্তি ও বাণিজ্য অঙ্গনে মতপার্থক্য থাকলেও ট্রাম্প বারবারই জানিয়েছেন যে, তার এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক শক্তিশালী থাকায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সমঝোতা হতে পারে।
আলোচনায় তারা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন। ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে যদি উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া না হয়, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব অনেক। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই আলোচনায় স্পষ্ট করে দেন, তাইওয়ান চীনের জন্য ‘রেড লাইন’ বা অতিক্রমের সীমা। তিনি বললেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং এই বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না। এ ছাড়া, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আরো সজাগ থাকেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বৈঠক একটি বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে কারণ চীন চলতি মৌসুমে মার্কিন সয়াবিনের কেনা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তারা এই মৌসুমে মার্কিন সয়াবিনের আমদানি ১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টনে উন্নীত করবে। পরবর্তী মৌসুমে চীন আরও ২ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন কেনার পরিকল্পনা করেছে, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য সুখবর। যদিও চীনের সরকারি বিবৃতিতে এই تفاصيل স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তবে তারা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার এবং মতভেদ কমাতে সম্মত হয়েছে। মূলত, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।






