২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া বেনাপোল প্রাথমিক পিকনিকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেনাপোল পৌরসভা স্মৃতিস্তম্ভে নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখে নির্মিত ওই স্মৃতিস্তম্ভে বুকে তীরবিদ্ধ অবস্থায় উড়ছে নয়টি কবুতরের প্রতীক ও লেখা রয়েছে — ‘আমার বর্ণমালা, তুমি ভালো থেকো’।
প্রতিবছর ওই দিনে পৌরসভা, স্কুল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করত। কিন্তু এবারের উপজেলা নির্বাচন ও সরকারি ছুটির কারণে সমন্বয় না হওয়ায় কোন বিশাল আয়োজন রাখা হয়নি। প্রধান শিক্ষিকা আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘আগে প্রতিবছর পৌরসভা থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। স্কুল থেকেও মিলাদ ও আলোচনা সভা করা হতো। এবার নির্বাচন ও সরকারি ছুটির কারণে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। তাই আয়োজন হয়নি।’
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে কয়েক জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনের কর্মসূচি পালন করেন। পৌরসভার সচিব বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও পৌরসভা দায়িত্ব পালন করেছে। অন্য সংগঠন বা স্কুল কর্তৃপক্ষ আয়োজন না করলে আমাদের বলার কিছু নেই।’ বেনাপোল নাগরিক কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ স্বপন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দিন দিন আমরা স্মৃতি ভুলে যাচ্ছি। আগে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিত। এবার প্রশাসন বা স্কুল কমিটির মনেই নেই দিনের কথা।’
২০১৪ সালের ওই দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষা সফরে মুজিব নগরে গেলে ফেরার পথে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার সময় ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুরপাড় নামক স্থানে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিতে মোট নয়জন শিশুশিক্ষার্থী নিহত হন এবং আরও প্রায় ৪৭ জন আহত হন; কিছু নিহত ঘটনাস্থলেই ও কিছু পরে হাসপাতালে মারা যান। মৃত শিশুদের মধ্যে ছিলেন সুরাইয়া (১০), জেবা আক্তার (৮), মিথিলা (১০), রুনা আক্তার মীম (৯), শান্ত (৯), সাব্বির হোসেন (১০), আঁখি (১১), ইকরামুল (১১) এবং ইয়ানুর রহমান (১১)। ইকরামুল চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুর্ঘটনার ১৩ দিন পর ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান; আর ইয়ানুর রহমান ওই দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন হারান।
দু’দশক আগে শিশুশিক্ষার্থীদের হাস্যোজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা আজও এলাকাবাসীর মনে টিকে আছে। তবে এবছর কোনো বড় শোকসভা বা র্যালি না হওয়ায় নিহত শিশুদের পরিবার ও স্থানীয়দের বেদনা আরো গভীর হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে আলোচনা না থাকলেও ফুল দিতে এসে অনেকেই স্তব্ধ হয়ে চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি।






