রোববার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী সি-130জে সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমান আসামের একটি জাতীয় মহাসড়কে জরুরি অবতরণের মতো নজিরবিহীন ও কৌশলগত ঘটনায় অবতরণ করেছে। এই অবতরণ জেলা প্রশাসন ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে উত্তর-পূর্ব ভারতের মোরান অংশে তৈরি বিশেষ রানওয়ের উদ্বোধনেরই অংশ ছিল।
আইনগতভাবে জরুরি অবতরণ সুবিধা (ইএলএফ) হিসেবে নির্মিত এই মহাসড়কটি জাতীয় সড়ক-৩৭-এর মোরান অংশে তৈরি এবং এতে বড় যুদ্ধবিমান ও ভারী পরিবহন বিমান সহজে অবতরণ ও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম করা হয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এমন ধরনের সুবিধা বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সামরিক বিশ্লেষকরা এটিকে ভারতের প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
মোদি আসামে একদিনের সফরে প্রথমে চাবুয়া বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান; সেখান থেকেই তিনি সামরিক বিমানে করে মোরান বাইপাসের ওই বিশেষ রানওয়েতে অবতরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের অবকাঠামো কেবল সামরিক প্রস্তুতির জন্য নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার-তথা ত্রাণ কাজ পরিচালনায় এবং সাধারণ মানুষের সেবায়ও বড় ভূমিকা রাখবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের বিশাল পরিবহন বিমানও সফলভাবে অবতরণ করতে পারবে।
অবতরণের পরে মোদি ওই স্থানেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমান প্রদর্শনীও উপভোগ করেন। প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এ প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ভারতীয় তৈরির তেজস ছাড়াও রাশিয়ার সুখوই ও ফ্রান্সের রাফাল ফাইটার জেট প্রদর্শিত হয়। এ প্রদর্শনী মূলত মহাসড়কটিকে যুদ্ধকালীন সময়ে রানওয়ে হিসেবে ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল। ভারতের প্রথম এই ধরনের মহাসড়ক–রানওয়ে ২০২১ সালে রাজস্থানের বারমের জেলায় উদ্বোধন করা হয়েছিল; মোরান রানওয়ে সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
কৌশলগতভাবে মোরান অঞ্চলটিও অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানে অবস্থিত। স্থানীয় বিবরণে বলা হয়েছে, ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের সিলেট সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এবং রংপুর সীমান্ত প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে—তাছাড়া এই অঞ্চল চীন সীমান্ত থেকেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে কাছাকাছি। এসব কারণে এই ধরণের মহাসড়ক-runway ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জন্য সরবরাহ সাঁকোর মতো কাজ করবে এবং জরুরি নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সহায়ক হবে।
আসামের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হওয়া এই সফরে প্রধানমন্ত্রী আরও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ঘোষণা, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং যানজট নিরসনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মোরানে এই বিশেষ মহাসড়ক-রানওয়ে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিমান অবতরণ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন একটি বার্তা পাঠাল—যেখানে সামরিক, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সাধারণ জনসেবার বহুমুখী প্রয়োজনে ব্যবহারের কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।






