মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্তমানে যে শিক্ষাসূচিতে বেকারত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে, সেগুলো দ্রুত বন্ধ করে এক নতুন, কার্যকর ও বাস্তবমুখী শিক্ষাকাঠামো গড়ে তোলা হবে। শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরও গুরুত্বের সঙ্গে জানান, কেবল ডিগ্রি অর্জনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন তারা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে।
তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার সংস্কারেও গুরুত্ব দেন। বলেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে বাংলার ব্যবহার আরও প্রচুর করে প্রতিপন্ন করতে হবে, আর এই ভাষাকে বৈশ্বিক মর্যাদার স্থানে উন্নীত করতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষাদানের পদ্ধতিকে সময়োপযোগী ও যুক্তিযুক্ত করতে হবে বলে তিনি জোর দেন। শিশুদের জন্য কেবল তাত্ত্বিক বা মুখস্থভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং হাতে-কলমে ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য মন্ত্রণালয় বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে কর্মহীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে পুরনো পদ্ধতি পরিবর্তনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষাক্রমের মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের কথাও বলেন। তিনি বলেন, শিখে যতই দক্ষ হয়ে উঠুক না কেন, একটি সুশিক্ষিত ও যোগ্য জাতি ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। নতুন সরকার দেশের সব পর্যায়ে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া, তিনি এও সতর্ক করেন যে, শিক্ষাবিভাগে দুর্নীতি ও দলীয়করণ কোনভাবেই বেহেদা হবে না, জিরো টলারেন্স নীতির ওপর জোর দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বড় ঘোষণা দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পথে একটি ইতিবাচক সঞ্চালন বলে মনে করা হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা অঙ্গীকার। প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, যা তরুণদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।






