পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মাঝেই ইরানে নতুন করে তীব্র হচ্ছে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বড় মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণে শুরু হওয়া এই নতুন কর্মসূচির মূল দাবি সেই হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকেই তেহরানের রাস্তাগুলো সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন শিবিরের অনুরাগীরা পাল্টা মিছিল ও সমাবেশ ডেকে লড়াইয়ের মুড দেখাতে শুরু করলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্নায়বিক উত্তেজনা দেখা দেয়।
ইরানের দেশীয় মালিকানাধীন ফার্স নিউজ বলছে, তেহরানের তিনটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সবচেয়ে সক্রিয় রূপ নিচ্ছে; তন্মধ্যে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে সামনে—শিক্ষার্থীরা এখানে আন্দোলনের কোর সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শরিফের শিক্ষার্থীরা সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ-পাহলভির আমলের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন এবং বর্তমান প্রশাসনের কঠোর নীতিমালার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিচ্ছেন। কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি ও বাধার মুখেও অনেক শিক্ষার্থী তাদের অবস্থান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।
তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে। তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে এমন সময়ে—পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে দাঁড়ানোয়া এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে। বহির্বিশ্বের কূটনৈতিক চাপ সামলাতে গিয়ে দেশের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও ভেতরের গণঅসন্তোষের এই সংমিশ্রণ ইরানকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বজোড়া কৌতূহল ও উদ্বেগের মধ্যে এই বিক্ষোভ কীভাবে মোড় নেবে—তারই দিকে এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ।






