চলমান অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ধীরে ধীরে অর্থনীতিতে স্থিতির সূচনা হলেও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনও বেশ ভঙ্গুর। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং স্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে নীতির গ্রহণকারীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন রবিবার প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত ও সতর্ক নীতির ধারাবাহিকতা জরুরি। এই মূল্যায়ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবরে থেকে ডিসেম্বরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে ধীরগতির হলেও ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সম্প্রসারিত বাণিজ্য ঘাটতি অর্থনীতির জন্য ভবিষ্যতে বিভ্রান্তির কারণ হয়ে থাকতে পারে। গত নয় মাসের প্রবণতা পর্যালোচনা করে সংস্থা ধারণা করছে, তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। জানুয়ারিতে সম্ভাব্য রপ্তানি আয় ৪.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে থাকলেও মার্চে এটি পৌঁছাতে পারে ৪.৫২ বিলিয়ন ডলারে। বৈদেশিক চাহিদা ও চালান বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব। অন্যদিকে, আমদানি ও বেড়েছে, যেখানে জানুয়ারির সম্ভাব্য ব্যয় ৫.৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে বাড়তে পারে ৬.০৪ বিলিয়ন ডলারে। শিল্পের দ্রুতগতির প্রসার ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্চে তা ৩.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আশা করা হচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মার্চে ২৮.৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা কিছুটা বৃদ্ধি হলেও মোটামুটি সীমিত। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও মার্চে এর কিছুটা কমার আভাস রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮.৬০ শতাংশ থাকলেও মার্চে এটি ৮.৫৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি মূল্যবৃদ্ধির হার, তবে সাময়িক স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে।






