জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংরক্ষণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে কাঁচা মুরগি ও ডিম আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গালফ নিউজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানিয়েছে যে বার্ড ফ্লু’র উচ্চমাত্রার প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশগুলোর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তালিকায় থাকা অনেক দেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকেই কার্যকর রয়েছে, আর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন কিছু দেশও যোগ হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, মিশর ও মিয়ানমার প্রভৃতি দেশ।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য বা শহর থেকে আংশিক আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সৌদি আরব বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান ও তুরস্ক থেকে। মুরগির মাংসের বড় অংশ আমদানি মাধ্যমে আসে ব্রাজিল থেকে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কাঁচা মুরগি ও ডিমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান পূরণ করলে প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করা যাবে। তবে এর জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকারী সনদ আবশ্যক হবে, যেখানে নিশ্চিত করা থাকবে যে পণ্যটি এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে যাতে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলোও রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
বর্তমানে সৌদি আরব তাদের মুরগির মাংসের প্রয়োজনের প্রায় ৭০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদন থেকেই পূরণ করছে; বাকি চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদনের আলোকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারক দেশগুলোর পোল্ট্রি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত নতুনভাবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভাইরাসমুক্ত উৎপাদন ও কড়াকড়ি নিশ্চিত করে রপ্তানি বজায় রাখার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ






