ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় পর্যায়ের আলোচনার প্রাক্কালে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন এক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এই অঞ্চলে তিনশো’র অধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে এই বিশাল সামরিক বহর বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা যখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, তখন ওয়াশিংটনের এই রণপ্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ এবং আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন এই বিমানবহর মূলত কাতার, জর্ডান ও সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি, সমুদ্রের উপর মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড যুদ্ধজাহাজ। এসব জাহাজে বিপুল সংখ্যক আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানবাহী রণতরীর প্রস্তুত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৭০টি বৃহৎ সামরিক পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কোনও বড়ো আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট ও ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি কৌশলগত ট্যাংকার বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেন আকাশপথে দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
সেন্টকম বা মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের এই বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই সরাসরি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ই, এফ-১৬ এবং সর্বাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫এ ও সি মডেল। অপরদিকে, বাকি ৩০ শতাংশ বহরে রয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও আকাশ সতর্কবার্তা ব্যবস্থা দিতে ব্যদ্ধ ইএ-১৮জি গ্রাউলার ও ‘অ্যাওয়াকস’ বা ই-৩ সেন্ট্রি বিমান। যদিও গত বছরের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি-২ বোমারু বিমানের নতুন কোনও গতিবিধি বর্তমানে নিশ্চিত হয়নি, তবে সামরিক শক্তির ব্যাপক জোরদার উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, যেকোনো বড় পরিকল্পিত অভিযানের জন্য এই আকাশবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
এছাড়া, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইসরায়েলও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি, তারা আরও ১২টি মার্কিন এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান নিয়েছে, যা শত্রু রাডার ধ্বংসের জন্য বিশেষভাবে সক্ষম। যদি ইসরায়েলের নিজস্ব আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোও মার্কিন বহরের সঙ্গে কোনও অভিযানে যুক্ত হয়, তাহলে এই শক্তির সমন্বয়ে সম্মিলিত আকাশসেবা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি আলোচনা ও শান্তি চেষ্টার মাধ্যমে সমাধান চান, তবে প্রয়োজন হলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই ‘প্রাণঘাতী’ সামরিক শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত থাকবেন।
এই চরম সামরিক উত্তেজনার মাঝেই, বৃহস্পতিবার ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হচ্ছে। এ সভায় ইরান এক লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফলাফল যাই হোক, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ পুরোপুরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে প্রস্তুত।






