দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে টানা প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ২৫ জনের প্রাণ হারিয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনের বেশি, যারা খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীরা দিন রাত এক করে কাজ চালাচ্ছেন। এ খবর নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা ও বিবিসি।
বৃহত্তম ক্ষতিগ্রস্ত শহর জুইজ ডি ফোরার মধ্যে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা জানা গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে হাজারো উদ্ধারকর্মী, সহকি উদ্ধারকুকুরসহ বিভিন্ন জরুরি বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী লিভিয়া রোজা জানিয়েছেন, তার কয়েকজন আত্মীয় কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাত থেকেই আমরা এখানে আছি, তাদের বেঁচে থাকার আশা দেখছি।’ এই মুহূর্তে একটাই একমাত্র আশ্বাসের উপায়।
শহরটির বিভিন্ন এলাকায় কাদা ও পানি জমে গেছে। একটি দ্রুত প্রবাহিত নদী পরিবর্তিত হয়ে নতুন এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি করেছে।
জুইজ ডি ফোরা শহরটি রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, নিকটবর্তী উবা শহরেও কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শহরটির মেয়র মার্গারিডা সালোমাও জানান, অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এ এলাকায় এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটার বেশি প্রবল তীব্র বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ধ্বংসাত্মক ও অবিরাম। এটি আমার প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক দিন।’
ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডেমেট্রিয়াস গৌলার্ট জানান, রাতের অন্ধকারে অনেকেই ঘরের ভিতরে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন, যেখাতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিউ লুলা দা সিলভা এক বার্তায় বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা দেয়া এবং প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনের কাজে সহায়তা করা।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আসন্ন কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে ভারী বর্ষণ, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কাজকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে এখন তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।






