বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন তার তেল আমদানির কৌশল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশটি এখন উচ্চমূল্যের বাজার এড়িয়ে দ্রুত সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য উৎসের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এক ধরনের অদৃশ্য সীমা নির্ধারণ করে রেখেছে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য। যখনই তেলের দাম কমে, তারা বড় পরিমাণে মজুত বাড়াতে কিনতে শুরু করে। আর যখন দাম হঠাৎ করে বাড়তে থাকে় তখন তারা আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যাতে বাজারে অস্থিরতা কম হয়।
এদিকে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুড অাইলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছায়, যা গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এই পরিস্থিতির প্রভাবে, নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলাসহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে চীন তেল আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আফ্রিকা থেকে চীনের দৈনিক তেল আমদানি সংখ্যা ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে যেতে পারে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। মূলত, দাম বৃদ্ধির ফলে, চীনের জন্য খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়ার উরালস গ্রেডের তেল বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। গত ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে চীনে দৈনিক ৪ লাখ ৪৪ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি হয়েছিল; তবে ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৮ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব এশীয় বাজারের জন্য দর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, চীন সেই বাজার থেকেও বেশি তেল সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আর ভারতের আমদানি কমানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, বেইজিং জ্বালানি সংগ্রহের অন্য দিকগুলোও বিকল্প করছে। মূলত, এখন দেশটি উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যকররণের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।






