এশিয়ার বৃহত্তম আইনজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম গত বুধবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই আইনজীবী পাড়ায় নতুন করে চাঙাশির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রত্যাশায় সমিতির নেতা-কর্মীরা প্রচারণা ও প্যানেল গঠন নিয়ে কাজ শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন সমিতিটি দীর্ঘদিন ধরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ মেয়াদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা সবকটি ২১টি পদ জয় করেছিল—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনার পর পরিস্থিতি বদলে গেলে নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আদালতে উপস্থিতি বন্ধ করে দিলে সমিতির প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
অচলাবস্থা মোকাবেলায় এবং নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন। বর্তমানে সেই অ্যাডহক কমিটিই সমিতির দৈনন্দিন কাজ তদারকি করছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই নির্বাচন থেকে নতুন নির্বাচিত নেতৃত্ব দায়িত্বগহণ করবে বলে সাধারণ আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ায় এখন থেকে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল গঠন ও ভোটপ্রক্রতির প্রস্তুতি দ্রুত শুরু করবেন—এমন অনুপ্রেরণা রয়েছে সমিতিতে।
সব মিলিয়ে এপ্রিলের এই নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বার অঞ্চলে উৎসবমুখর ও উৎসাহী পরিবেশ লক্ষ করা যাচ্ছে, যেখানে সমিতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও পরিচালনা কাদের হাতে যাবে তা কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।






