বরিশালে আদালত বর্জন, এজলাসে হট্টগোল ও বিচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমেত ২০ জন বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশে দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান (লিংকন)কে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, ‘আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছেন। এজাহারে ১২ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।’
এজাহারে নাম উল্লেখিত মূল ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। ওই দিন আসামিরা বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।
একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযোগকৃত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তুল্লাহর এজলাসে হঠাৎ প্রবেশ করে সেখানে শুনানিতে থাকা আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করে দিতে বলেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন উপস্থিত আইনজীবীদের তাৎক্ষণিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং এক আইনজীবীকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।
এসব ঘটনায় আইনজীবী মিজানুর রহমান বিচারককে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে নিচে নামার নির্দেশ দিতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বরত জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকেও ধাক্কা দিয়ে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আরও অভিযোগে আছে, উত্তেজিত আইনজীবীরা এসময় আদালতের অভ্যন্তরে ব্যাপক হর্ন ভাঙচুর চালান—ডায়াস, মাইক্রোফোনসহ বেঞ্চ ও টেবিল ভাঙা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, কজলিস্ট ও মামলা নথি ছিঁড়ে ফেলে বিচারিক কাজ বাধাগ্রস্ত করা হয়।
পুলিশ এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে এবং মামলার সূত্রে অভিযোগসমূহ সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।






