জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর এটি হবে দ্বিতীয় বড় রাজনৈতিক লড়াই, তাই মাঠে কোনো জায়গা ফাঁকা রাখা যাবে না।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের এক কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যারা দলের পক্ষে ঝুঁকি নিয়েছিল, তাদেরই নানা সামাজিক ক্ষেত্র থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের বাছাই করে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এজন্য নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।
সম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জামায়াত পরাজিত হয়নি—বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে এবার দলটি যে সাফল্য পেয়েছে তা তিন দিক থেকে ব্যাখ্যা করেন তিনি। প্রথমত, প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বে অর্থবহ ঐক্য গড়ে উঠেছে; দ্বিতীয়ত, তারা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পেয়েছে; তৃতীয়ত, দলকে একসঙ্গে ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে।
টিআইবি ও সুজনসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের অভিযোগকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন শুধু জামায়াত নয়, আরও অনেকে নির্বাচনে কারচুপির কথা বলছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল নির্ধারণেরও নির্দেশ দেন তিনি।
ঢাকার বস্তি এলাকার বিষয় তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সেখানে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও টাকা, ওয়াদা কিংবা সন্ত্রাস কিছুই কাজ করেনি। এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি এবং যোগ করেন, তারা থামবে না।
শিবিরের পর তিনি নগরের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে ও অপরাধ প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে; এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের ক্ষতি হবে।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং জানান যে বিষয়টি এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি; দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন হবে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানালেন এবং সতর্ক করে দিলেন যে সরকারি দলের কেউ যেন অপরাধীদের পক্ষ না নেয়। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অপরাধ দমন সম্ভব, আর জনগণের কল্যাণে কাজ করলে জামায়াতও সহযোগিতা করবে—এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।






