প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো তারেক রহমান তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্দী আমিন।
বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী কার্যালয়ের গঠন ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে।” তিনি প্রশাসনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকার সঠিকভাবে কাজ করবে তখনই, যখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারকে যথাযথভাবে সহযোগিতা করবে।
দেশকে নিজেদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও স্মরণ করান যে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই একটি মেনিফেস্টো থাকে এবং জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী মেনিফেস্টো বাস্তবায়নের পক্ষে রায় এনেছে। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে কাজ করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য, সাধারণ শিক্ষা, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়া সহ ঘোষিত সব এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি। সরকারি পরিষেবায় দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের নিরাপদ বোধ করানো অত্যন্ত জরুরি—এ কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি তবে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।”
দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি ও对此 আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া দেশের ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তা রক্ষা, সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকটি কর্মঢঙ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কেন্দ্রিক প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা-পর্যালোচনায় সমাপ্ত হয়, যেখানে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও পুনর্বার খতিয়ে দেখা হয়।






