স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি সোনার মূল্য আবারও বেড়ে গেছে, যার মধ্যে দিয়ে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন করে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এতে জানানো হয়, আজ থেকে শুরু করে দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার পরে নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্যের তালিকা অনুযায়ী, এখন বাজারে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। এর আগে একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা। কম মানের অর্থাৎ ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতিতে ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।
অবশ্য, সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বাড়তি ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটে রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ধাতু দুটির মূল্য বেশ চড়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বর্ণ ও রুপার আন্তর্জাতিক মূল্য পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি (Goldprice.org) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম বর্তমানে ৫ হাজার ২৭৮ ডলার। এর আগের মাসের শেষের দিকে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারির মধ্যে তা বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের বাজারে সোনার দাম এক লাফে অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি এক দিনের মধ্যে ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা নিয়ে, এবং তা ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পৌঁছায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। এ ধরনের উচ্চতার মূল্য ওঠানামা ছিল না আগে কখনো। মূলত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দেশের বাজারে খাঁটি সোনার সংকট এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনের মূল কারণ।






