মাঠের লড়াই শেষ হয়ে প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পুরস্কার অর্থ এখনো তোলা হয়নি। যদিও কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি—নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও সিলেট টাইটান্স—চলতি সপ্তাহে তাদের ক্রিকেটারদের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ করে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে, তবু টুর্নামেন্টের শীর্ষ দুই দলের প্রাইজমানি এখনো আটকে আছে।
এবারের বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে দেওয়ার কথা ছিল ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সংবাদ সংগ্রহের সময় জানা গেছে, উভয় দল তাদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে জমা দিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে এখনও ওই অর্থ বিদ্যমান হয়নি।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতेखার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, প্রাইজমানি হস্তান্তরের সব দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সব নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে দেবে—তিনি এই আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদ পর্যন্ত দলের হাতে এই অর্থ পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন।
মিঠু নিশ্চিত করেছেন যে নিয়মানুযায়ী রানার্সআপ দলের ক্রিকেটাররা মোট প্রাইজমানির ৪০ শতাংশ ভাগ পাবেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অঙ্ক ও কবে কবে হিসাব হবে—এগুলো প্রক্রিয়া শেষে নির্দিষ্ট করা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, এবারের আসরে অংশ নেওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যে বিসিবি থেকে অংশের হিসেবে লভ্যাংশ পেয়েছিল—সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্নিষ্ট সূত্রের খবর, এবারে বিসিবির অর্জিত লভ্যাংশ থেকে দলগুলোর ভাগ পাওয়া যাবে কি না সে সম্ভাবনা এখন সংকীর্ণ; থাকলেও পরিমাণ খুবই কম হতে পারে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রাইজমানি দ্রুত না মেলায় দলের পরিকল্পনা ও আর্থিক সমন্বয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। খেলোয়াড়রা সময়মতো পারিশ্রমিক পেয়েছে বলেছিলো কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি, কিন্তু বড় পুরস্কারটি না আসায় দলের ব্যয়ভার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্থির করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্রমতে, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও লভ্যাংশ সংক্রান্ত ব্যাপারে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষ হলে বকেয়া পরিশোধের পথ সুগম হবে—তবে সঠিক সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।






