ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দিনের মধ্যে লেবাননে প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হয়ে হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থীও নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত রিপোর্টে ইউএনএইচসিআর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘‘বড় একটি মানবিক জরুরি অবস্থা’’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি দ্রুত ও ব্যাপক সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে বলেও সতর্ক করেছে।
ঘটনার সূচনা হিসেবে চলতি সপ্তাহের সোমবার ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অভিযোগভিত্তিক রকেট হামলাকে দাবী করে, এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুকে ভাঙার উদ্দেশ্যেই অভিযান চালাচ্ছে। একইসঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বৈরুতের কিছু অংশ থেকে বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সময়ের মধ্যে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিকে লক্ষ্য করে কম সময়ে দুইটি হামলা হতে দেখা গেছে। ওই রাতে ওই এলাকায় পার্শ্ববর্তী পাড়া-মহল্লাগুলোকে লক্ষ্য করে ১২টিরও বেশি আঘাত হয়। সাংবাদিকদের চোখে দেখা অনুযায়ী নজিরবিহীন উচ্ছেদসংক্রান্ত হুমকির পর অনেক অঞ্চল এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরে (রিপোর্টে বলে ‘সিডন’) সাম্প্রতিক সময়ে একটি হামলায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টকে লক্ষ্য করা হয়; এই স্থানটিকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটিতে ধরা হয়নি। ওই হামলায় হামাসের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই সহিংসতায় লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলছেন, দেশটি এখন এক বিপজ্জনক মুহূর্তের মুখে পড়েছে এবং একটি মানবিক বিপর্যয় এসে ঠেকতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে যাতে পরিস্থিতি শিথিল করা যায়।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে এবং লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত বরাবর ভিতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি এখন আরও তীব্রায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং হাজার হাজারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তা প্রদানের তাগিদ রয়েছে।






