জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর তিন প্রাক্তন শিক্ষার্থী স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ এ ভূষিত হচ্ছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৫ জন ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। খবরটি গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জানানো হয়।
বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিমকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, আর ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী ও ড. এম এ রহিমকে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
ড. জহুরুল করিম বড়হার পদচিহ্ন দেশীয় কৃষি গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে স্পষ্ট। তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) ও ঢাকাস্থ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানীর ভূমিকায় কাজ করেছেন। এরপর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরে জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন। তার নেতৃত্ব ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ দেশের কৃষি গবেষণার উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল অনুষদের প্রাক্তন ছাত্র। তিনি এক সময় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাংক্ট (অ্যাডজাঙ্ক্ট) প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক এবং ফার্ম মেশিনারি ও পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগে দীর্ঘ সময় সফলভাবে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি প্রযুক্তি বিশেষ করে ফার্ম মেশিনারি ও ধানচাষের আধুনিকায়নে তার অবদানকে উচ্চ বিচারে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন এবং জাতীয় উদ্ভিদ সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং গবেষণা ও শিক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
এই তিন জনের অর্জন দেশের কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে—তারাই এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে সম্মানিত হলেন। বাকৃবি এবং সমগ্র কৃষি সম্প্রদায় তাদের সফলতা নিয়ে গর্বিত।






