টানা দুই ম্যাচ হারের পরে অবশেষে জয়ের স্বস্তি পেল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে সেল্টা ভিগোর সঙ্গে ২-১ গোলে জয় তুলে নিল আলভারো আলবেলোয়ার দল। পুরো খেলায় লস ব্লাঙ্কোসদের পারফরম্যান্স যতটা ধারালো হওয়া উচিত ছিল তেমনটা ছিল না — তবে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ফেদে ভালভার্দের নতুনরূপের একটি শট ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিল।
ইনজুরি-বিপর্যস্ত রিয়াল ৪-৩-৩ ফরমেশনে নেমে আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রাহিম দিয়াজ ও আর্দা গুলারকে জায়গা দিয়েছিল। ম্যাচে মোট বল দখলে রাখার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ, তবু প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভাঙতে পারেনি তারা। পাল্টা আক্রমণে বারবার রক্ষণকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে রিয়ালকে — এবং যদি না থাকতেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, ফলাফল আরও ভিন্ন হতেই পারত।
প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোলপাত শুরু হয় ১১ মিনিটে, যখন ফরাসি মিডফিল্ডার অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি রিয়ালকে এগিয়ে দেন। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের ছোট কর্নার থেকে আর্দা গুলারের পাস পেয়ে চুয়ামেনি জোরালো শর্টে জালে বল পাঠান। কিন্তু রিয়ালের এই আনন্দ বেশি দিন টেকেনি। ২৫ মিনিটে সেল্টার উইলিয়ট সোয়েডবার্গের চোখধাঁধানো পাস থেকে বোরজা ইগলেসিয়াস সমতা ফিরিয়ে আনেন দারুণ ফিনিশিং দিয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সোয়েডবার্গের আরেকটি শটে কোর্তোয়া অবিশ্বাস্য সেভ দেখান এবং দুই দলই সমতা নিয়ে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল রকমার খেলায় খুঁজে পায়নি ছন্দ। খেলার চাপ বাড়তে থাকলে ৮৭ মিনিটে সেল্টা একটি বড় সুযোগ পায় — ইয়াগো আসপাসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং দর্শকরা মনে করতে থাকেন ম্যাচ ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে। তবে ফুটবলে সব সময় শেষ সিটি-লাইট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
মাঠে যোগকৃত সময়ের (৯০+৫) শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচ মোড় নেয়। বক্সের বাইরে থেকে ফেদে ভালভার্দের নেওয়া শটটি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে পৌঁছায় — এবং রিয়াল শিবির উল্লাসে ভেসে ওঠে। সেই মুহূর্তে স্টেডিয়াম গুঞ্জায় ভরে ওঠে, আর দলের জয়ের দাম ছিল দেখা।
স্ট্যাটিস্টিকসে দেখা গেল, পুরো ম্যাচে রিয়াল মোট ১৪টি শট নেয় কিন্তু কেবল ৩টি শটই লক্ষ্যে গেছে — এটি তাদের গোলহানির পিছনে ধারাবাহিকতার অভাবকে প্রশস্ত করে। তবু এই জয়ের ফলে লা লিগার শিরোপা প্রতিযোগিতায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা টিকে রইল। ২৭ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে, আর এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা।
ম্যাচটিতে খেলার মান নিয়েই ধৈর্য্য ধরে আরও উন্নতি করা সবচেয়ে জরুরি বিষয় রিয়ালের জন্য। আগামী ম্যাচগুলোতে এই জয়ের ধারাকে ধরে রাখতে পারবে কি না— সেটাই এখন সমর্থক ও বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।






