লিওনেল মেসির আগমন ইন্টার মায়ামিকে আমেরিকান ফুটবলের নতুন উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। স্পোর্তিকোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির প্রভাবে ইন্টার মায়ামি মাত্র কয়েক বছরে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সবচেয়ে মূল্যবান ক্লাবে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছে; ক্লাবের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৪৫ কোটি মার্কিন ডলার।
মায়ামির সহ-মালিক জর্জে মাস ব্লুমবার্গকে জানিয়ে দিয়েছেন যে ক্লাব তাদের অধিনায়ককে সন্তুষ্ট রাখতে এবং বিশ্বমানের ফুটবল নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। জর্জে মাসের ভাষ্য অনুযায়ী, লিওনেল মেসির বার্ষিক বেতন প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি মার্কিন ডলার, এবং এই অংকের মধ্যে ক্লাবের মালিকানায় মেসির নির্ধারিত শেয়ারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান যে মেসির মতো একজন খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে বড় ধরনের স্পনসরশিপ ও বিনিয়োগ ছিল অপরিহার্য, কিন্তু তাতে খরচ হওয়া প্রতিটি পয়সা তাদের কাছে সার্থক হয়েছে।
এদিকে এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী মেসির মূল বেতন কোনো এককভাবে ১২ মিলিয়ন ডলার হিসাবে ফিগারড হলেও আনুষঙ্গিক ক্ষতিপূরণ, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে মোট আয় অনেক বেশি দাঁড়াতে পারে। উপরন্তু, বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস এবং লিগের ব্রডকাস্ট পার্টনার অ্যাপলের সঙ্গে চুক্তির ফলে মেসি অতিরিক্ত রয়্যালটি ও বাণিজ্যিক আয়ও পাচ্ছেন।
মেসির আগমনের আরেকটি স্পষ্ট প্রতিফলন হলো ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিস্তার। মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটেই নির্মাণাধীন ২৬,৭০০ আসনের নতুন স্টেডিয়ামটি ব্রাজিলীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ চুক্তির কারণে ‘ন্যু স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত হবে। ক্লাব জানিয়েছে, আগামী ৪ এপ্রিল এই নবনির্মিত মাঠে ইন্টার মায়ামি প্রথমবারের মতো খেলবে।
ক্লাবের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে; মেসির আগমন থেকে ক্লাবের বাজারমূল্য বছরে গড়ে ২২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টার মায়ামির বিজনেস অপারেশনস প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের আসেন্সি বলেছেন, মাঠ ও ব্যবসায়িক সাফল্য একে অপরের পরিপূরক—মেসির উপস্থিতি ছাড়া ক্লাব এতদূর পৌঁছতে পারত না।
মাঠের কৃতিত্বও চোখে পড়ার মতো: মেসির নেতৃত্বে দল লীগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপ জিতেছে, রেকর্ড সংখ্যক পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য নিজেদের নিশ্চিত করে ক্লাবের প্রোফাইলকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে গত অক্টোবরে মেসির চুক্তি বাতিল করে না করে বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে, ফলে তিনি কয়েকটি মৌসুম আরও মায়ামির জার্সিতে মাঠ মাতাবেন।
সংক্ষেপে, মেসির মাঠীয় দক্ষতা ও শো-স্টপার সম্ভাবনার সমন্বয়ে ইন্টার মায়ামি এখন ক্রীড়াজগতের এক নতুন পাওয়ার হাউসে রূপ নিয়েছে—যেখানে ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা মিলেই এই সাফল্য এনে দিয়েছে।






