আজ বৃহস্পতিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে, যা ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। এ দিন সকাল ১১টায় এই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন, যা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। পাশাপাশি এদিন স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকার শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের কাজেও এই অধিবেশনে অংশ নেবে সংসদ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতার আওতায় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা চূড়ান্ত হবে। প্রথম দিন সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান লক্ষ্য হবে, যেসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করার প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব রাখা। জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, এবং বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে এবং রাষ্ট্রপতি তাঁদের শপথ পড়াবেন। প্রথম দিন সংসদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, যেখানে সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থাপনা করেন, কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম ঘটবে কারণ, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে দেখা যায়নি। তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। অন্যদিকে, বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাবন্দী রয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পরে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে, যার জন্য সংসদ সদস্যরা ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করবেন ও আলোচনা করবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরে নতুন এই সংসদ গঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে, যেখানে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে ৬৮টি আসন পেয়েছে। নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্য ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ অর্জন করেছেন। এই সংসদে নির্বাচিত সবাই প্রথমবারের মত প্রতিনিধি হয়ে আসছে, এবং এর মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবার সংসদে পদার্পণ করলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এই সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর চলবে, অর্থাৎ এই সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০৩১ সালের মার্চে। সংসদে আইন প্রণয়নের কাজ পরিচালনা হয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই প্রথমবারের মতো সংসদের কার্যপ্রণালী, বিধি-বিধান ও স্থায়ী কমিটির কাজ বুঝতে কিছু সময় লাগবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন মন্তব্য করেছিলেন, ‘প্রথমত, এবারের নির্বাচন থেকে নির্বাচিত ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মত সাংসদ। তাদের অনেকেরই কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই, যার জন্য সংসদে কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও দেখা যেতে পারে।’





