ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থে ও জনস্বার্থে সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে হবে। তিনি স্পিকারকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, এখন থেকে স্পিকার আর কোনো দলের প্রতিনিধিই নন; তিনি এখন পুরো সংসদের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতা প্রেমিক গণতান্ত্রিক মানুষজন এই সংসদকে তাকিয়ে আছে একটি শক্ত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল শুরু হয় এই অধিবেশনের প্রথম দিন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তার বা ভাষণে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার অনেকাংশে সংকুচিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মানুষকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল এবং সংসদকে করা হয়েছিল অধিকার লুণ্ঠনের হাতিয়ার। তিনি বলেন, এই সময়ে যেসব প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারেননি, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের মহান সংসদ এখন। এটি বাংলাদেশের মানুষের সংসদ, যেখানে জনগণের স্বার্থই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি আরও জানান, বিরোধিতার নামে বিরোধিতা নয়, বরং বিতর্ক ও যুক্তির মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করতে চান তিনি। এই ক্ষেত্রে স্পিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সব সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে স্পিকারের প্রতি সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শাহাদত বরণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান নিবেদন করেন। তিনি বলেন, শতাধিক পরিবার যারা স্বজন হারিয়েছে বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সমবেদনা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যারা রাজনৈতিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তারা দেশকে আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনেছেন।
প্রধানমন্ত্রী এই নতুন সংসদের যাত্রায় দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্রজনতার প্রতি শুভকামনা প্রকাশ করেন। স্মরণ করেন, মরহুমা খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজকের দিনটি এই গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্যোয় নির্ভর করছে। তিনি তাদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া কখনো স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি, তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম চরিত্র ছিলেন। এখনো এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
সঙ্গে তিনি বলছেন দেশের স্বপ্নপূরণে তিনি বিএনপির সভাপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেন, যেখানে জনগণই আসল রাজনৈতিক দল। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, তিনি এবারই প্রথম জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন, তবে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য সব পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলা, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। সকল দল ও মতের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে ভাষ্য করেন, একমাত্র ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনই সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল।
জনগণের রায়টি নিয়ে দীর্ঘদিন পর আবার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পতিত ও পরাজিত সরকারের বিচিত্র কর্মকাণ্ডের কারণে পূর্বের সংসদে সদস্যরা অনুপস্থিত থাকায় এখন নতুনভাবে সংসদ চালানো হচ্ছে। ইতিহাসের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ের প্রথম সংসদও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছিল।
শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য। এই মুহূর্তটি দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনার জন্য একত্রে কাজ করা হবে।
