মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন প্রস্তাবকে ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র জনগণগত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শনিবার ও সোমবার সিউলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় শত শত মানুষ রাস্তায় নামে এবং সরকারের কাছে এই আহ্বান প্রত্যাখ্যানের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, তারা দেশের সামরিক শক্তিকে কোনোভাবে বিদেশি সংঘাতে জড়াতে চান না।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। ওয়াশিংটনের এই আহ্বানকে বিবেচনায় নিয়ে সিউল সরকার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিলেও সাধারণ জনগণের মনোভাব সম্পূর্ণ বিপরীত—বৃহৎ অংশ ইতোমধ্যেই মিত্রতাকে আপেক্ষিক চাপ হিসেবে দেখছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংঘাতে নামলে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের জীবন-জীবিকা বিপদে পড়তে পারে। তারা আশঙ্কায় জানান যে, সামরিক অংশগ্রহণ কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে এবং অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনেকেই মনে করেন, দেশের নৌবাহিনী কেবল নিজের সীমান্ত ও গণ্যমান্য প্রতিরক্ষা লক্ষ্যেই নিয়োজিত থাকা উচিত, অন্য কোনো দেশের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় নয়।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মানুষ প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ওয়াশিংটনের চাপের সামনে অনাগত সিদ্ধান্ত না নেন। স্লোগান ছিল—’বিদেশি অভিযানে নৌবাহিনী পাঠানো হবে না’ ও ‘সামরিক সম্পদ দেশের নিরাপত্তার জন্যই ব্যবহার হোক’। এই তীব্র জনমতের প্রভাব সিউলের রাজনৈতিক মহলেও স্পষ্ট; সরকার এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানির এক অনুষঙ্গ—এখানের অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও উত্তেজনা বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গড়ে তুলতে ও মিত্রদের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে অনুরোধ করেছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে জনমতের এত প্রবল বিরোধ রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিবিদদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সিউল ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন এক ধরনের টানাপোড়েনের মুখে। যদি সরকার মার্কিন আহ্বান গ্রহণ করে, তা হলে বড় হারে গণবিরোধ এবং কূটনৈতিক চাপ দেখা দিতে পারে—এখনই অনেকে বলছেন, সরকারকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।






