জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সাংসদ কায়সার কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গঠিত বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কলমাকান্দা সদরের রামকৃষ্ণ আশ্রম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশেই ফিরে এসেছি যেখানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার সমান সুযোগ রয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য দল-মত, পথ বা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার ঐক্য ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ‘মানুষ হিসেবে আমাদের কর্মই সবচেয়ে বড় পরিচয়’ — কর্মের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির ও সমগ্র সমাজের মূল্যায়ন হয়, বলেন তিনি।
কায়সার কামাল জানান, সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুসলিমদের ইমাম-খতিব, হিন্দুদের পুরোহিত ও সেবাইত, খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু সহ সকল ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, জাগতিক জীবনে অর্জিত অনেক কিছু সাথে নেওয়া যায় না; তাই ধর্মীয় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মানবতা, ন্যায়, সততা ও পাপ থেকে বিরত থাকা। সব ধর্মই সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়, তাই ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে সবাইকে সমান অধিকার দেওয়া জরুরি।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ—সবাই যেন গর্ব করে বলতে পারে, ‘এই দেশ আমার বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সকলকে এক করে দেশের জন্য রক্ত দেওয়া হয়েছিল; তখন ধর্মভেদের পার্থক্য কেউ দেখেনি। ঠিক একইভাবে এখন দেশ গড়ার কাজে সকলের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা এভাবেই অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
অনুষ্ঠানে কলমাকান্দা রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অনুজ চক্রবর্তীর সভাপতিত্ব ছিল এবং সাধারণ সম্পাদক গোপেশ চন্দ্র সরকার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এর আগে দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যও দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল ছাড়া কোনো দেশের গণতন্ত্র পরিপূর্ণ হয় না; সরকার ও বিরোধী দলের যুগপৎ ও দায়িত্বশীল ভূমিকায়ই গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী ও কার্যকর হয়।
ডেপুটি স্পিকার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৫-২০ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে বিরোধী মতপ্রকাশের পরিবেশ ছিল না, সংসদ অনেক সময় ‘রাবার স্ট্যাম্প’ে পরিণত হয়েছিল এবং বিরোধী দল ছিল কেবল নামমাত্র—এই অবনতির ফলে ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জব্বার খান, বিদ্যালয়ের জমিদাতা মিল্টন ঘোষ, জালাল উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।






