দুই দশকের অভিনয়জীবনে বারবার নিজেকে ভেঙে গড়ে তুলেছেন সোহেল মণ্ডল। মঞ্চনাটক থেকে শুরু হওয়া তাঁর পথচলা নাটক ও সিনেমার অলি–গলির পরিদৃশ্য পেরিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বোদ্ধা দর্শকদের মন জয় করেছেন। এবার ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ডার্ক থ্রিলার ‘রাক্ষস’-এ তিনি একেবারেই নতুন রকমের ভিলেন হিসেবে হাজির হয়ে দর্শক ও সমালোচকদের অবাক করেছেন। মুক্তির পর থেকেই সোহেল মণ্ডলের অভিনয়ই অধিকাংশ গ্যালারির আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
‘রাক্ষস’-ে সোহেল মণ্ডলের লুক ও অভিনয়ের শক্তি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা তোলাায় সক্ষম হয়েছে। ঈদের দিন থেকেই তিনি সিনেমার প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সরাসরি দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিচ্ছেন এবং তাদের ভালোবাসা গ্রহণ করছেন। এমন সরাসরি স্বীকৃতি একজন শিল্পীর জন্য খুবই উজ্জীবক—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। হলে দর্শকরা যখন তাঁর চরিত্র নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন, তখন সোহেল মণ্ডল একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে গভীর তৃপ্তি অনুভব করছেন।
ওটিটির পরিচিত সীমা পেরিয়ে বাণিজ্যিক বড়পর্দায় এই বিধ্বংসী উপস্থিতি ঢালিউডে নতুন ধরনের শক্তিশালী খলনায়কের আগমনী বার্তা দিচ্ছে—এমনটাই দর্শক এবং কলাকুশলীদের সমালোচনায় পড়ছে। এই চরিত্রের জন্য তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, তা তিনি নিজেও স্বীকার করেন। শারীরিক ফিটনেসকে ঘিরে আগেই কাজ শুরু করেছিলেন এবং ঠিক তখনই ‘রাক্ষস’-এর অফারটি পান।
পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় চরিত্রের গভীরতা ও প্রসঙ্গ ব্যক্ত করলে সোহেল মণ্ডল মানসিকভাবে নিজেকে সেই চরিত্রের ছাঁচে গড়তে শুরু করেন। শুধু নিজের প্রচেষ্টা নয়—মেকআপ আর্টিস্ট, কস্টিউম ডিজাইনার ও টিমের সহায়তাও ছিল অপরিসীম। সবার সম্মিলিত কাজেই পর্দায় ‘রাক্ষস’-এর রহস্যময় ও ভীতিকর খল চরিত্রটি জীবন্ত হয়েছে। তিনি টিমের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বাণিজ্যিক ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে এটি সোহেল মণ্ডলের প্রথমবার নয়। ২০১৬ সালের ‘মুসাফির’-এও তাকে নেতিবাচক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। তবুও প্রায় এক দশক পর বড়পর্দায় ভিলেন হিসেবে ফেরার এই মুহূর্তটি তাঁর দৃষ্টিতে আলাদা কারণ ‘রাক্ষস’-এর চরিত্রটি ভিন্ন ঘরানা ও অনেক বেশি বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বাণিজ্যিক ধারার কোনো উপযুক্ত চরিত্রের খোঁজে ছিলেন—এমন সুযোগই নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় তাঁকে ভাগ করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এই সুযোগকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখেন ও নির্মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যতে আবারও নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাবে কি—এই প্রশ্নের জবাবে সোহেল মণ্ডল বলেছেন, তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে রাখতে চান না। একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী হিসেবে তিনি নায়ক হোক বা খলনায়ক, গল্প এবং চরিত্র যদি তার শৈল্পিক তৃপ্তি দেয়, তা তিনি গ্রহণ করবেন।
এখন তিনি ‘রাক্ষস’-এর অপ্রত্যাশিত সাফল্যের আনন্দ উপভোগ করছেন এবং আশা করছেন এই ছবি ঢালিউডে বৈচিত্র্যময় চরিত্রপ্রদর্শনের সুযোগ আরও সুসংহত করবে। তরুণত্ব আর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে সোহেল মণ্ডল এখন বড়পর্দার এক গ্রহণযোগ্য ও অপরিহার্য নাম হয়ে উঠছেন।






