নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে শনিবার দুপুরে চিত্রা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ হয়; তাদের মধ্যে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, অন্যজন এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, মহিষখোলা গ্রামের আবদুল্লাহ শেখের মেয়ে আরিয়া (৭) এবং এনায়েত শেখের মেয়ে রাফিয়া (৬) বাড়ির পাশে চিত্রা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা নদীতে উদ্ধারকাজ শুরু করলে যাদবপুর খেয়াঘাট এলাকা থেকে রাফিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে। আরিয়া এখনো নিখোঁজ আছে এবং তাকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
কালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ইদ্রিস আলী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত আরিয়া উদ্ধার হয়নি; তাছাড়া নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও স্থানীয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ঈদের ছুটির সময় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচর এলাকায় ঘটেছিল আরেক দুর্ঘটনা। এখানে মধুমতি নদীতে নিখোঁজ হওয়া শিশুটিাসমিয়া (১১) — দুই দিন অনুপস্থিত থাকার পর শনিবার নিহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌপুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, তাসমিয়া যশোর সদর উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের জিন্নাহের মেয়ে। তিনি লোহাগড়ার কুন্দসীর নানাবাড়িতে ঈদ কাটাতে এসে গত ২৬ মার্চ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পাংখারচরে মধুমতিতে ঘুরতে যায়। পরিবারের সদস্যরা দুটি ট্রলারে ভ্রমণে বেরিয়ে নদীর তীরেই ছবি তোলা ও আনন্দ করছিলেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন তাসমিয়াকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসও তৎক্ষণিক তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। একপর্য্যায় শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে, ডিগ্রিরচর খেয়াঘাট এলাকায় স্থানীয়রা তাসমিয়ার লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় তার পরিবার ও নানাবাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাসমিয়া-পক্ষের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উভয় ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।






