ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালানোর জন্য সিসিলির ঘাঁটি ব্যবহার করার তাদের অনুরোধ মঞ্জুরি দেওয়া হবে না। বিষয়টি মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নয়—তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বোমারু বিমান পূর্ব সিসিলির সিগোনেল্লা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করার পরিকল্পনা করেছিল এবং ওটিইখান থেকেই তারা মধ্যপ্রাচ্যে যেতে পারে। তবে ঠিক কখন এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত এক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি না চাওয়ার পাশাপাশি ইতালির সামরিক নেতৃত্বকে বিষয়টি জানায়নি; চুক্তি অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তাই ইটালীয় কর্তৃপক্ষ ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে দেয়নি।
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি, জানিয়েছে রয়টার্স। স্থানীয় শিল্পপত্রিকাও ঘটনা নিয়ে আলোকপাত করেছে এবং ঘাঁটিগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। অতি বামপন্থি বিরোধী দলগুলো ইতালি যেন কোনো বৈরয়ে অংশ নেয় না সেজন্য সরকারকে সতর্ক করে এসেছে। তাদের দাবি—দেশের সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংঘাতে তাদের টেনে না নিয়ে আসুক।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোন অনুরোধ এলে তা অনুমোদনের আগে পার্লামেন্টের সম্মতি নেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় রাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ঘাঁটিগুলো ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন ও আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্ব এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। যে কোনো বিদেশি সামরিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতালীয় নীতি ও পার্লামেন্টারি তদারকির ভূমিকা এখন আরও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।






