বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট তাঁর দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ নিয়েই আইনি ঝামেলায় জড়িয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে গত সোমবার মামলা করেছেন লেখিকা ও গায়িকা ম্যারেন ওয়েড। মামলায় টেইলর সুইফটের পাশাপাশি বাদী রেকর্ড লেবেল ইউএমজি রেকর্ডিংসকেও বিবাদী করেছেন। অভিযোগটি ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন এবং বিনোদন জগতের অন্যায্য প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত।
ম্যারেন ওয়েডকে রিয়্যালিটি শো ‘আমেরিকার গট ট্যালেন্ট’ থেকে চিনতে পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেছেন যে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ‘Confessions of a Songgirl’ নামের একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড গড়ে তুলেছেন। ২০১৪ সালে লাস ভেগাস উইকলিতে কলাম লিখেই তার এই ব্র্যান্ড যাত্রা শুরু করে, পরে তা জনপ্রিয় পডকাস্ট ও লাইভ মিউজিক অনুষ্ঠানে রূপ নেয়। ২০১৫ সালে তিনি ঐ নামটি ট্রেডমার্ক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধনও করান।
বাদীর এজাহারে বলা হয়েছে যে টেইলর সুইফটের নতুন অ্যালবামের শিরোনাম ওয়েডের দীর্ঘদিনে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের স্বকীয়তা কমিয়ে দিতে পারে এবং সাধারণ ভক্ত ও ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ওয়েডের পক্ষ দাবি করছে, এত বছর ধরে কষ্ট করে গড়ে ওঠা ব্র্যান্ডকে কোনো একক তারকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া ঠিক হবে না।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হল যে, মার্কিন পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস (ইউএসপিটিও) আগেই টেইলর সুইফটের কাছ থেকে ওই অ্যালবামের নাম ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউএসপিটিও-এর পর্যবেক্ষণে ‘of a Songgirl’ অংশটি ম্যারেন ওয়েডের নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সঙ্গে পর্যাপ্ত সাদৃশ্যপূর্ণ, ফলে একই ধাঁচের বিনোদন ও সঙ্গীত সেবায় এই নাম দুটি ব্যবহার করলে ভোক্তারা দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে বলে মনে করতে পারেন।
টেইলর সুইফটের উল্লিখিত অ্যালবাম মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ব্যাপক ব্যবসা করেছে—অন্য উইনিং হিসাব অনুযায়ী আমেরিকায় প্রায় ৪০ লাখ কপি এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৫ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। অ্যাসালফলের এই বাণিজ্যিক সফলতা বিবেচনায় নিয়ে ম্যারেন ওয়েড বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবী করেছেন। তার আইনজীবীরা চেয়ে নিয়েছেন সুইফটকে ওই নির্দিষ্ট শিরোনাম ব্যবহার থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি হারানো মুনাফা, নানা ক্ষতি ও আইনি খরচ মেটানো হোক।
এ ব্যাপারে এখনো টেইলর সুইফট বা তার মুখপাত্রের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই মামলা পূর্ণাঙ্গ বিচারে যায়, তবে তা মার্কিন বিনোদন শিল্পে ট্রেডমার্ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
ফ্যানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে এবং গানের শিরোনাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহারকে কেন্দ্র করে শিল্পী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় সম্পর্কে এই মামলা ভবিষ্যতে স্পষ্ট পথনির্দেশ দিতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্ত কী হবে—সেটাই এখনকার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।






