পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি ঘিরে মুক্তির আগে থেকেই ছিল ব্যাপক উত্তেজনা। কিন্তু মুক্তির পরই কারিগরি ত্রুটি, অসংলগ্ন চিত্রনাট্য এবং ভিএফএক্স ও কালার গ্রেডিংয়ের খামতির কারণে সিনেমাটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। দীর্ঘ নীরবতার পর গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে শাকিব খান নিজে দাঁড়িয়ে দর্শকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সারাদিন উঠা সব অভিযোগের জবাব দেন।
শাকিব অকপটে স্বীকার করেছেন যে ‘প্রিন্স’ দর্শকদের সামনে একটি পরিপূর্ণ ছবিতে পরিণত করা যায়নি। তিনি বলেন, প্রধানত সময়ের সংকট এবং প্রশাসনিক জটিলতা এই ব্যর্থতার বড় কারণ। নির্মাণ কাজের শুরুতেই অনুমোদনের জন্য প্রায় তিন মাস লেগে যাওয়ায় নির্ধারিত শুটিং শিডিউল বদলে যায় এবং শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োতে অনেক কিছুতে আপস করতে বাধ্য হতে হয়। তিনি আরও জানান, এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি যেখানে দৃশ্যধারণ ঈদের ঠিক এক দিন আগে পর্যন্ত চলেছিল; এমনকি প্রধান নারী চরিত্রের কিছু দৃশ্যও সময় সাপেক্ষতার কারণে বাতিল করা হয়েছিল।
দর্শকদের একাংশের ক্ষোভ পরিচালকের দিকে থাকলেও শাকিব পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে মেধার অভাব নয়—সময়ের ঘাটতিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, একটি গান ঈদের এক দিন আগে শুট করা হয় এবং আরেকটি গান মাত্র এক শিফটে সম্পন্ন করতে হয়েছে। যখন তিনি প্রথম সিনেমাটির পরিকল্পনা শুনেছিলেন তখন মনে হয়েছিল এটি তার জীবনকালের একটি সেরা কাজ হবে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে মুক্তি দেওয়ার ফলে মান বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে ‘প্ল্যান বি’ রাখার এবং আরও সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কারিগরি ত্রুটি ও নেতিবাচক রিভিউয়ের কারণে বড় পর্দায় প্রদর্শনে দেখা দেরিও হয়—স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো বড় হলে ছবিটি কয়েক দিন ধরা পড়েনি। এ প্রসঙ্গে শাকিব তার ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এত সমালোচনার পরও দর্শক প্রেক্ষাগৃহে এসে যে সমর্থন দেখাচ্ছেন, তা তার প্রতি মানুষের অন্তর্চেতনার প্রকাশ; এই ভালোবাসাই তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
বিশেষ প্রদর্শনীতে শাকিবের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে ফারিণ ছবিটির বিষয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং সে কারণেই প্রচারে অংশ নিচ্ছিলেন না, তবে 이날 তিনি উপস্থিত থেকে স্বীকার করেন যে নিজের প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটেনি।
শাকিব এই অভিজ্ঞতাকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘প্রিন্স’ থেকে পাওয়া শিক্ষা তাকে ভবিষ্যতে আরও নিখুঁত ও মানসম্মত সিনেমা উপহার দিতে সাহায্য করবে—তাই দর্শকের কাছে তিনি একবার ক্ষমা চাইলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন আগামিতে ভালো কাজ করার।






