অন্য কোনও প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা না থাকলেও মাঠে দারুণ প্রমাণ রেখেছেন নেইমার জুনিয়র। শনিবার ক্লাব দে রেমোর বিরুদ্ধে ম্যাচে একটি অ্যাসিস্টসহ দুই গোলের সরাসরি ভূমিকা রেখে সান্তোসকে ২-০ গোলে জয় এনে দেন তিনি।
কিন্তু এই জয়ে আলাদা রঙ যোগ করতে পারেননি নেইমার — ম্যাচের ৮৬ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখায় তাঁর পরবর্তী ম্যাচে খেলার যোগ্যতা পড়লো না। ঐ হলুদ ছিল তার টুর্নামেন্টের তৃতীয়টি, ফলে নিষেধাজ্ঞায় পড়া অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে শতভাগ ফিটনেস দেখতে চান বলে দলকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন নেইমার; তাই এই ধারাবাহিক উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবু প্রয়োজনীয় মঞ্চটি — পরের ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে — নেইমারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না।
ম্যাচের উত্তেজনার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় দিয়েগো হার্নান্দেজের কঠোর ফাউলের পরে দুই দলই উত্তেজিত হয় এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এগুলো থামাতে না পেরে রেফারি সাভিও পেরেইরা নেইমারের ওপর হলুদ কার্ড দেখান, যা নেইমারের কাছে ছিল অনাকাঙ্খিত ও অন্যায় বলে তিনি মনে করেছেন।
নেইমার রেফারির সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রেফারির আচরণ রীতিমতো অশ্রদ্ধার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সে এগিয়ে এসে ম্যাচের তারকা হতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার আচরণ মোটেই সম্মানজনক নয়।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমাকে পেছন থেকে ফাউল করা হয়েছে—এটা প্রথম নয়, হয়ত তৃতীয় কিংবা চতুর্থ। আমি অভিযোগ করার চেষ্টা করলে আমাকে হলুদ দেখানো হয়েছে। এটা অন্যায়।’
ম্যাচে নেইমারের সরাসরি সহায়তায় প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে মিডফিল্ডার থাসিয়ানো গোল করেন। পরে ৮২ মিনিটে নেইমারের তৈরি করা আক্রমণ থেকেই গঞ্জালো এসকোবার মার করে গোল করে ম্যাচ ফল নিশ্চিত করেন। এই জয়ের ফলে সান্তোস ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে ১৩তম স্থানে উঠে আসে।
নেইমারের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সান্তোস একটি বড় তারকাকে ছাড়া খেলবে, যা দলের জন্য সূক্ষ্ম পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রেফারির সিদ্ধান্ত এবং ম্যাচ সংক্রান্ত উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে; তবু মাঠে নেইমারের অবদান অবশ্যই দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।






