জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট ও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন মৌলিক উপাদানের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত তার ফুড প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চের আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ২.৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, যা সরবরাহ ও উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানে যুদ্ধের কারণে খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তবে যদি এই সংঘাত চলতি বছর ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং সারনের দাম আরো বৃদ্ধির দিকে যায়, তাহলে কৃষকরা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বেন। ফলাফলস্বরূপ, আতঙ্কজনক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, কৃষকরা কম সার ব্যবহার করে, চাষের পরিমাণ কমিয়ে বা অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করতে বাধ্য হতে পারেন। এতে চাষাবাদে কম ফলন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য সরবরাহ ও বাজারের দামে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
জাতিসংঘের সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ। পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পাম অয়েলের মূল্য এখন ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রা affected হয়েছে। যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক ও শিল্পক্ষেত্রে ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র রণক্ষেত্রের বাইরেও গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে, যেখানে উভয়পক্ষই অর্থনৈতিক ও শিল্পক্ষেত্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এদিকে, এখনো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট শান্তিপন্থী পদক্ষেপ বা শান্তির ইঙ্গিত চোখে পড়ছে না। বরং, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি আরো জোরদার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে, ইরানিওরা মনে করছেন, নারাজি বা ক্ষোভ প্রকাশের জন্য চলমান এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলশ্রুতিতে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করানো হবে না।’






