নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ পুলিশি অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং লুট করা মালামাল ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঘটনার প্রধান কুঁড়ি দ্রুত উদ্ঘাটন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: নওগাঁ সদর থানার দোগাছী (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), মহাদেবপুর থানার শিবরামপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬), সাপাহার থানার খোট্টাপাড়া গ্রামের মৃত কালু মন্ডলের ছেলে আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩)।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনা ঘটে গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা থানার সরাইগাছী-খাট্টাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজে। ডাকাতরা রশি টানিয়ে সড়ক বন্ধ করে রাখে। ওই সময় মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহী প্রথমে তাদের কাঁচা হাতে পড়ে; পরে আরও একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহীকেও একইভাবে জিম্মি করা হয়। সবকাহিনি শেষেভুক্তভোগীদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে গিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং দুটি ১২৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর দ্রুত তদন্ত করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল কাহিনি উদ্ঘাটন করা হয় এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি সড়কপথে চলাচলের সময় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং জেলা পুলিশ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।






