মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদ হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল আবার স্থগিত করে দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারী বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ বুধবার (৮ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংকটের মূল কারণ হলো যুদ্ধবিরতির আওতা ও সীমারেখা নিয়ে বিরূপ অস্পষ্টতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি ওই শান্তি আলোচনা মধ্যস্থতা করছেন, দাবি করেছিলেন যে চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলাও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।
তবে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে ‘‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড়’’ ধরনের সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে এবং তাদের মতে এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণ করে; লেবাননের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
লেবাননে ইজরায়েলের হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সকালে মাত্র দুটো তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেয়া হয়েছিল; কিন্তু লেবাননে হামলা শুরু হতেই বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল স্থগিত করে দেয়া হয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ইজরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি সরে গিয়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের চাপেই ইরান কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমিয়েছিল। কিন্তু প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ হওয়ায় বাজারে আবার অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে; রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে কয়েক শত তেলবাহী ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় আটকা পড়েছে।
এভাবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতি অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যদি আঞ্চলিক হামলাগুলি থামানো না যায়, তাহলে এ সংকটের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।






