বিদেশি বেগুনাহে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রচেষ্টাকে—যাকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়—কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এমন চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, বলে একটি অভ্যন্তরীণ আইসিই ই-মেইলে জানা গেছে।
ইমেইলে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ‘বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে। এই অভিযান চলাকালীন তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দেশজুড়ে সেইসব সংগঠিত নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে, যারা গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য দিতে সাহায্য করে এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
এই নারী ও তাদের পরিবারের উদ্দেশ্য সাধারণতই যুক্তরাষ্ট্রেই সন্তান জন্ম দিয়ে নবজাতকের জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতিকে দुरুপযোগী করে তোলার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি অভিযোগ করেছেন, জন্ম পর্যটন করদাতাদের ওপর এটি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর। অন্য দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) স্পষ্ট করে জানিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়াই বেআইনি নয়; তবে যদি ভিসা জালিয়াতি বা অন্য কোনো প্রতারণার ছত্রছায়ায় এই ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে নেওয়া একটি নীতিমালায় বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব স্থাপন করার উদ্দেশ্যেই পর্যটক ভিসা ব্যবহার করা যাবে না এবং এমন ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ আরোপ করা হতে পারে। বর্তমানে এই ইস্যু নিয়ে রিপাবলিকান নেতারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার দাবি তুলছেন।
আইনি মর্যাদা-গত পটভূমিতেও উত্তেজনা আছে: যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটিতে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই নাগরিকত্ব পায়—এটি বহু বছরের আইনি নজির। ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যদি বাবা-মায়ের কেউ মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে তবুও দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। কয়েকজন ফেডারেল বিচারক সেই আদেশের কার্যকর হওয়া স্থগিত করেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
পরিসংখ্যান বলছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ কতটা বড় সমস্যা তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ২০–২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৩৬ লক্ষ শিশুর সঙ্গে তা তুলনায় সামান্যই। তবু রাজনৈতিক ও নৈতিক তর্কগুলো কেন্দ্রে রয়েছে—নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এসব ঘটনাকে দেশপ্রেম ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করছে।
এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যারা জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত চক্র ভেঙে দেবে বলে জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘বার্থ হাউস’ পরিচালনার অভিযোগে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল—সেই ঘটনা একই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় পরিচালিত আইনি পদক্ষেপ হিসেবে স্মরণীয়।
সংক্ষেপে, এখনই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনশিলভাবে বহাল থাকলেও, ট্রাম্প প্রশাসন জন্ম পর্যটন সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।






