ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বৃদ্ধি করা হবে। এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত অনুমোদন আগামী ২৮ এপ্রিল কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে ঘোষণা করা হবে বলেও জানা গেছে।
ফিফা সূত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর অর্থনৈতিক উদ্বেগকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কারণে উচ্চ ভ্রমণ ব্যয়, ট্যাকার জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির বাজেট সংকটের অভিযোগ এসেছে—এগুলো মিলিয়ে অনেক দলের ফেডারেশন টুর্নামেন্টের পরে আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব বাস্তব উদ্দেগ মাথায় রেখেই ফিফা দলগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মোট ৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের (প্রায় ৭২৭ মিলিয়ন ডলার) একটি প্রাইজমানি ঘোষণা করেছিল। তখনই বলা হয়েছিল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্য ন্যূনতম ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করা হবে এবং চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার) দেয়া হবে। বর্তমানে ফিফা জানাচ্ছে যে এই মোট তহবিল আরও বাড়বে এবং এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আর্থিক পুরস্কারের রেকর্ড স্থাপন করবে; তবে সুনির্দিষ্ট নতুন অংক বৈঠকের পরে ঘোষণা করা হবে।
ফিফার এক মুখপাত্র বলেছেন যে, ফিফা নিরন্তরভাবে ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আয়-ব্যয়ের বিশ্লেষণ ও রাজস্ব বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনায় শুধু বিশ্বকাপের পুরস্কার বাড়ানোই নয়, বরং ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন তহবিলও বৃদ্ধি করা হবে, যাতে স্থানীয় ফুটবল পরিচালনা ও উন্নয়নকে মজবুত করা যায়।
ফিফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে সংস্থাটি আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছে এবং সেই সক্ষমতা বিশ্ব ফুটবলের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াইয়ের জন্য নয়, বরং ফুটবল ফেডারেশন ও খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিক থেকেও একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হবে। ফিফা সূত্র জানায়—বিস্তারিত আর নতুন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট অঙ্কগুলো আলোচনা ও অনুমোদনের পর দ্রুত প্রকাশ করা হবে।






