নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার ইতিমধ্যেই প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৮১৪ পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম হচ্ছে, তারা পরিবারে আরও স্বচ্ছল হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা, গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন পুষ্টি ও শিশুদের বিকাশের জন্য বিশেষ উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারে প্রবেশের সুবিধা বাড়ানো।
তিনি উল্লেখ করেন যে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইন ও বিধিমালা এখন অধিকতর কার্যকর, যেমন- ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব। এর পাশাপাশি, নারী ও শিশুদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালু রয়েছে।
এছাড়া, মা ও শিশুদের জন্য ধারাবাহিক সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রসবপূর্ব ও পরবর্তী সেবা, টিকা এবং প্রসবকালীন সহায়তা আরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শহর ও গ্রামে নারীর জন্য পৃথক প্রশিক্ষণ ও বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও থাকছে। এর অংশ হিসেবে, ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪ নারী প্রধানকে মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শিশুদের ভবিষ্যৎ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিশুপুরস্কার, চলচ্চিত্র নির্মাণ, এবং দরিদ্র শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। পথশিশু পুনর্বাসনে বর্তমানে ১৫১ শিশুর জন্য আবাসিক কেন্দ্র ও ৯টি আউটরিচ স্কুল রয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন দিবাযত্ন কেন্দ্র ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারও প্রতিষ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য সরকারি নানা প্রকল্প চালু রয়েছে। খুলনা জেলার দাকোপ ও কয়রা, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর-আশাশুনি এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জীবিকা সহায়তা ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ চলছে। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বশেষ, তিনি আশ্বাস দেন যে, জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা করতে সরকারের খেয়াল রয়েছে। নদী ভাঙন ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় তদারকি জোরদার ও দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে।






