জাপানি অটোমেকার টয়োটা ২০২৫ অর্থবছরে আবারও বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে। জাপান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ওই সময়ে রেকর্ড ১ কোটি ৪৮ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়িয়ে প্রায় ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে, যা গতবারের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়োটার এই উদ্বোধনী প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির ব্যাপক চাহিদা। উত্তর আমেরিকার বাজারে টয়োটার গাড়িগুলোতে ভালো সাড়া মেলে—যদিও মার্কিন শুল্ক নির্দিষ্টভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে, তারপরও চাহিদি শক্তই দেখা গেছে। বিশেষ করে করোলা ও ক্যামরি মডেলের জনপ্রিয়তা টয়োটার বড় বিতরণ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; যুক্তরাষ্ট্রে টয়োটার বিক্রি বেড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হয়ে ২৫ লাখ ২০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।
জাপানের বাইরে টয়োটার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে—অন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে রেকর্ড ৯০ লাখ গাড়ি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও সবগুলো বাজারে সফলতা মেলে নি। চীনে শক্তিদীপ্ত ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে টয়োটার বিক্রি খানিকটা হ্রাস পেয়েছে; চীনে বিক্রি ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে। একইভাবে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রিও প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
অন্য জাপানি নির্মাতাদের জন্য গত অর্থবছরটি মিশ্র ফল ছেড়ে গেছে। বড় আটটি কোম্পানির সম্মিলিত বিক্রি প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে; এর মধ্যে হোন্ডার বিক্রি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নিসানও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে, তবে সুজুকি কিছুটা ইতিবাচক সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে।
সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ শুল্ক ও স্থানীয় প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও টয়োটা হাইব্রিড মডেলগুলোর ওপর ভর করে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করতে পেরেছে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






