বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলে প্রত্যাশা ছিল দেশের স্বার্থই প্রধান হবে। তবে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, বর্তমানে সরকার দেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বেশি রেখে চলেছে। তিনি আরও বলছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরুর বার থেকেই বলছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’, এর মধ্যে রয়েছে একটি আড়ালে চুক্তি, যা দেখাচ্ছে সরকার ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র’ নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক সভায় এ মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি সভার সভাপতিত্ব করেন। সময়োপযোগী এই আলোচনা পাসে, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরামহীন বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেই সময়ের পরিস্থিতিতে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বিশেষ উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হয়। এর মধ্যে এলএনজি আমদানির চুক্তিও ছিল। পত্রপত্রিকায় জানা গেছে, পেট্রোবাংলা এই বিষয়ে কিছু জানত না, এমনকি বিমান কেনার বিষয়েও। এমনকি নতুন নির্বাচিত সরকারের সময়ও এই ঘটনাগুলো শুরু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্যচুক্তিকে আমি জাতীয় স্বার্থবিরোধী অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছি। এই চুক্তি স্বাক্ষরে তখনকার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পাশাপাশি ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।’
আনু মুহাম্মদ এই চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তারা এই চুক্তি স্বাক্ষরে সাহায্যকারী হলেও, তাদেরকে এখনও দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে বাস্তবে অমিল। দেশের স্বার্থের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে আমি মনে করি।’






