ময়মনসিংহে কয়েক দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ ঝরে পড়ায় বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারী ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
রোববার (৩ মে) সকালে নগরীর প্রধান পাইকারি বাজার মেছুয়া বাজার গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা গুঁড়িয়ে এসেছে; ফলে ক্রেতাদের বাড়তি দামে সবজি নিতে হচ্ছে। আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, মাঠ থেকে পর্যাপ্ত পণ্য আসছে না এবং পরিবহন সংকটও মূল্য বাড়ির প্রধান কারণ।
বাজারে বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁকরোলের দাম—এখন কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজিতে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫-২০ টাকা বেশি। অন্য সবজির দামও বাড়ছে; পটোল ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কচুর মুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে কেজি প্রতি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা এবং শসা ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষ করে সজনে ডাঁটার দাম সবচেয়ে বেশি আগুনে উঠে গেছে—প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। বেগুনের দামও বেড়ে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে ওঠা-নামা করছে। কাঁচামরিচের বাজারে উত্থান সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে; এক সপ্তাহের মধ্যে মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে বিভিন্য প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তার বিপরীতে গাজর ও পেঁপে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে; এদের কেজিপ্রতি দাম আগের মতোই প্রায় ৫০ টাকা পর্যায়ে দেখা গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, স্থানীয় উৎপাদনকারী এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি না আসায় চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কমে গেছে।
পাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠ থেকে পণ্য পাঠাতে পারছেন না; আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ বস্তা সবজি আসত, এখন তা কমে মাত্র ২-৩ বস্তায় নেমে এসেছে। সরবরাহের এই বড় ঘাটতি পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।
পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়ে। ছোট দোকানপাটগুলো পাইকারি মূল্যের ওপর আরও ১০ থেকে ২০ টাকা যোগ করে বিক্রি করায় সাধারণ ক্রেতাদের ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়সম্পন্ন মানুষের জন্য দৈনন্দিন বাজার কেনা এখন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় সচল না হওয়া পর্যন্ত সবজির মূল্য দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে মাঠে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।






